ডেঙ্গু রচনা

বাংলা রচনা: ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া

ভূমিকা:

বর্ষায় কিংবা বর্ষার শেষ দিকে এদেশে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ,চিকুনগুনিয়া প্রভৃতি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কারণ এইসব রোগের সংক্রমণের একমাত্র কারণ হলো মশা। মশকবাহিত জীবাণু কিংবা ভাইরাস রোগীর দেহ থেকে সুস্থ মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। বর্ষায় কিংবা বর্ষার শেষ দিকে সঞ্চিত জলে মশা ডিম পাড়ে ও মশার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ওইসব রোগের সংক্রমণকে ভয়াবহ করে তোলে। গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহর ও শহরতলীতে গলি-ঘিঞ্চি বস্তি অঞ্চলে রোগের বিস্তার হতে বেশি দেখা যায়।

ডেঙ্গু কি:

সম্প্রতি ম্যালেরিয়ার চেয়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা যায় দেশের ব্যাপক অঞ্চল জুড়ে। ডেঙ্গু হলো এডিস ইজিপ্টাই নামীয় মশকবাহিত রোগ। চার ধরনের ভাইরাস যথা- ডেন- ১, ডেন- ২, ডেন- ৩, ও ডেন- ৪ এই রোগের কারণ। ডেঙ্গুতে শুধু এ দেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ আক্রান্ত হয়। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১০ কোটি মানুষ এই রোগের কবলে পড়ে। এই রোগে মৃত্যুর কারণ হলো ত্রিবিধ।
এক- হ্যামারেজিক ফিভার। এ ধরনের জ্বরের প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে তীব্র। রোগী প্রবল জ্বরে কাবু হয়ে পড়ে। তা ছাড়া মলমূত্রের সঙ্গে কিংবা চামড়া ফেটে রক্তপাত ঘটে। যথাসময়ে চিকিৎসাদি না হলে রোগী মারা যায়।
দুই- এনকেফলায়টিস।
তিন- কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।

চিকুনগুনিয়া কী:

চিকুনগুনিয়াও ডেঙ্গুর মতো এডিস ইজিপ্টাই নামীয় মশকবাহিত ভাইরাস ব্যাধি। ভাইরাসের নাম চিকুনগুনিয়া ভাইরাস। মাথাব্যাথা ,কাপুনি, গাটে গাটে অসহ্য যন্ত্রণা, ঘন ঘন বমি ,দেহে চাকা চাকা দাগ ও প্রবাল জ্বর, ১০৪ থেকে ১০৬ ডিগ্রি তাপ এ রোগের লক্ষণ। জ্বরের প্রাবল্যে তাপমাত্রার অতিবৃদ্ধি মৃত্যুর কারণ হয়।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া কিভাবে ছড়ায়:

ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার কারণে ওই দুই ভাইরাস ঘটিত রোগের বিস্তারের প্রধান উৎস হল মশা। মশা রোগীকে কামড়ায়। রোগীর দেহের জীবাণু বা ভাইরাস মশার দেহে সঞ্চারিত হয়। সেই মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তার শরীরে ওই রোগের জীবাণু বা ভাইরাস সংক্রমিত হয়। এভাবে ডেঙ্গু কিংবা ইজিপ্টাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের উপায় কি:

ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায় হল এডিস ইজিপ্টাই মশার উৎপত্তিকে বিনাশ করা। এডিশ ইজিপ্টাই মশা ময়লা জলে নয়, পরিষ্কার স্বচ্ছ জলে জন্মায়। এয়ারকুলার, ফুলদানি, কাচের বোতল, পরিতক্ত টায়ার প্রভৃতি পাত্রের জলে যাতে মশা ডিম পাড়তে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। জলের ট্যাংকের মুখ এমন ভাবে আটকে রাখতে হবে, যাতে মশা বংশবিস্তার না করতে পারে। রোগীকে মশারির ভিতরে রাখতে হবে, যাতে রোগী মশার নাগালের মধ্যে না পড়ে। পরিবারের সুস্থ মানুষেরাও মশারি ব্যবহার করবে। তাছাড়া সুস্থ যারা, তারা পোশাকে শরীর ঢেকে রাখবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করা দরকার। সর্বোপরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় উপায়।

রোগের চিকিৎসা:

ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার প্রতিষেধক নেই। প্যারাসিটামল খাইয়ে সাধারণত চিকিৎসা করা হয়। শরীরে তরলের ভারসাম্য যাতে রক্ষা হয়, সে সম্পর্কেও সতর্ক থাকা দরকার। শরীরে তরলের ভাগ কমে গেলে মৃত্যু হতে পারে। তবে চিকিৎসকের চিকিৎসায় ও পরামর্শের মধ্যে থাকা একান্ত আবশ্যক। রোগের বাড়াবাড়ি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা বাঞ্ছনীয়।

উপসংহার:

সর্তকতা ও সচেতনতা রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় উপায়। সেই সঙ্গে পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখে চলতে পারলে রোগের প্রকোপ গ্রাস করতে পারে না। রোগ যাতে সংক্রামিত না হয় ,সেজন্য সজাগ থাকা বাঞ্ছনীয়।

👉 সমস্ত রচনা দেখতে: Click Here

1. বিজ্ঞান ও কুসংস্কার
2. পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা
3. ছাত্রজীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা

Subscribe Our YouTube Channel: Click Here

মাধ্যমিক রচনা: ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রচনা

বাংলা রচনা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রচনা

মাধ্যমিক রচনা সাজেশন | উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা প্রবন্ধ রচনা pdf | উচ্চ মাধ্যমিক রচনা সাজেশন | বাংলা রচনা মাধ্যমিক সাজেশন | বাংলা রচনা
গুরুত্বপূর্ণ বাংলা রচনা | প্রবন্ধ রচনা class 10 | উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা রচনা সাজেশন

ডেঙ্গু রচনা

Madhyamik Bengali Suggestion

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বাংলা প্রবন্ধ রচনা pdf

Keywords: ডেঙ্গু রচনা pdf ডেঙ্গু রচনা বাংলা

Leave a Comment

CLOSE

You cannot copy content of this page