Biggan Ashirbad na Abhishap | বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ বাংলা প্রবন্ধ রচনা
বিজ্ঞান: অভিশাপ না আশীর্বাদ
ভূমিকা:

বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। কি শহর, কি গ্রাম- সর্বত্রই আমরা নানাভাবে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করছি। বিজ্ঞানের বলে মানুষ হয়েছে বলিয়ান। তাই বিজ্ঞানকে মানুষ নানা ক্ষেত্রে নানা রূপে ব্যবহার করেছে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতি পদক্ষেপই রয়েছে বিজ্ঞানের অবদান।

বিজ্ঞানের অবদান:

প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজার জন্য রয়েছে টুথবেস্ট, টাটকা শাকসবজিকে ফ্রিজে রেখে অনেকদিন ধরে তাকে ভালো অবস্থায় রাখতে পারছি, মাছ মাংস কে ওই ফ্রিজে বেশ কয়েকদিন রেখে দিচ্ছি, তাতে ওসব খাদ্য পচন হচ্ছে না। বিদ্যুৎ কে আমরা ব্যবহার করছি নানাভাবে। অন্ধকার রাতে বিদ্যুৎ ঘরকে আলোকিত করছে, দারুন গরমে বৈদ্যুতিক পাখার হাওয়া আমাদের দেহকে শীতল করছে। বিদ্যুৎ চলছে রেলগাড়ি, ট্রাম গাড়ি, রেডিও, টেলিভিশন ও কলকারখানা। বিজ্ঞানের দৌলতে আমরা পাচ্ছি নানারকম প্রসাধন সামগ্রী, ঔষধ। লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন বই, খাতা ,কলম, কালি। এ সবই আমরা পাচ্ছি বিজ্ঞানের দৌলতে।
শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রোগ প্রতিষেধক টিকা দিয়ে তাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এসবই বিজ্ঞানের অবদান। কাজেই বিজ্ঞান আমাদের জীবনে এনে দিয়েছে সুখ স্বাচ্ছন্দ। বিজ্ঞানের দৌলতেই আমরা কৃষি ক্ষেত্রে অধিক ফসল ফলাতে পারছি। সুপ্রজননের দ্বারা শংকর গাভী সৃষ্টি করে আমরা প্রচুর দুধ পাচ্ছি। ফসল ও শাক-সবজির ক্ষতিকারক কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করে আমরা ফসলকে রক্ষা করতে পারছি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আমরা পাচ্ছি নানারকম ধাতু ও বিদ্যুৎ। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করে তার সাহায্যে আমরা রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম হচ্ছি। এ সবই বিজ্ঞানের সুফল।
প্রত্যেক পদার্থ অগণিত অণুর সমবায় গড়া। এই অণুর ক্ষুদ্রতম অংশ হল পরমাণু। পরমাণু এতো যে ছোট চোখে দেখা যায় না। বিজ্ঞানের বলে বলিয়ান মানুষ সেই সুখ্যাতিসূক্ষ্ম পরমাণুকে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ভেঙে উৎপন্ন করতে পারছে পারমাণবিক শক্তি। সেই শক্তি অদৃশ্য। অদৃশ্য সেই শক্তির সাহায্যে মানুষ আজ উড়োজাহাজ চালাতে সক্ষম হচ্ছে। সক্ষম হয়েছে পারমাণবিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে। এসব কথা ভাবলে অবাক হতে হয় বইকি।

👉 সমস্ত রচনা দেখতে: Click Here
বিজ্ঞানের কুফল:

আবার ওই পারমাণবিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ তৈরি করছে পারমাণবিক বোমা। ভয়ংকর সে বোমার ক্ষতিকর প্রভাব। এখনো পর্যন্ত একবারই সে বোমা ব্যবহৃত হয়েছে এবং তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ই। জাপানের দুই বড় শহর হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা বর্ষিত হয়। তার ফলে শহরের যাবতীয় প্রাণী ও উদ্ভিদ যায় মরে। রক্ষা পায় যারা তারা বংশানুক্রমে হয় বিকলাঙ্গ ও পঙ্গু। এই পারমাণবিক বোমা ও বিজ্ঞানের অবদান।
বেশ কয়েক বছর আগে আমাদের দেশেও ভোপালে একটি গ্যাস কারখানা থেকে মিথাইল আইসোসাইনাইট নামক গ্যাস লিক করে। ফলে বহু লোক মারা যায়। ওই বিষাক্ত গ্যাসের শিকার হয়েও বেঁচে যাই যারা। তারা আজও জীবন মৃত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

উপসংহার:

এসব ঘটনার কথা ভাবলে মনে দুটি প্রশ্ন উদয় হয়। প্রথমত বিজ্ঞান কি মানুষের কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ দেখা দিয়েছে, না অভিশাপ রূপে দেখা দিয়েছে। সুস্থ মস্তিষ্কে চিন্তা ভাবনা করলে আমরা বুঝতে পারবো যে বিজ্ঞান সজন মানুষের হাতে পড়লে শুভ ফল দেয়। কিন্তু নীতিজ্ঞানশূন্য মানুষের হাতে পড়লে তা অশুভ শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করে। বিজ্ঞানের সুফল ও কুফল- এই দুটি দিক আমরা প্রত্যক্ষ করে থাকি তার জন্য দায়ী কে? অবশ্যই বিজ্ঞান নয়। দায়ী মানুষ। সৎ কাজে ব্যবহার করলে, মানুষের সুখ সচ্ছন্দর কাজে ব্যবহার করলে বিজ্ঞান আশীর্বাদ স্বরূপ। কিন্তু বিজ্ঞান কে অশুভ কাজে, ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করলে বিজ্ঞানকে অভিশাপ বলেই মনে হয়। মানুষ বিজ্ঞানের উন্নতি ঘটিয়ে যাচ্ছে মানুষের কল্যাণে আর কিছু মানুষ কুবুদ্ধি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সেই বিজ্ঞানকেই সংহারের কাজে ব্যবহার করছে। কাজেই সবদিক বিবেচনা করে একথা বলা যায় যে বিজ্ঞান মানুষের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। এর অভিশাপ রূপ দেওয়ার মূলে আছে কতিপয় নীতি জ্ঞানশূন্য মানুষের অশুভ বুদ্ধি।

Subscribe Our YouTube Channel: Click Here

Leave a Comment