বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা

বিশ্ব উষ্ণায়ন

ভূমিকা:

বিজ্ঞানের হাত ধরে সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষ সভ্য হয়েছে। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতি মানুষকে একসঙ্গে উপহার দিয়েছে অমৃত ও গরল। আর যে গরল নিয়ে আজ বিশ্ববাসী শঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত তা হল বিশ্ব উষ্ণায়ন। শুধু পরিবেশের দিক থেকে নয় পৃথিবীর সার্বিক অগ্রগতিতে বিশ্ব উষ্ণায়ন এক জ্বলন্ত সমস্যা। এই সমস্যা আজ গ্ৰাস করে চলছে সমগ্র মানব সভ্যতাকে।
সূর্যরশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে পতিত হয় না। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর ভেদ করে পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাসের ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বায়ুমণ্ডলের এই গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বিগত কয়েক শতাব্দি ধরে ক্রমশ বেড়ে চলেছে। ‌১৮৫০ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে গড়ে তাপমাত্রা বেড়েছে ০.৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার ১৯০০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বেড়েছে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ:

বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য প্রধানত দায়ী মানুষের অতিরিক্ত ভোগ আকাঙ্ক্ষা। পূর্বে উৎপন্ন হওয়া বিষাক্ত গ্যাস গাছ শোষণ করে নিয়েছে। কিন্তু মানুষের অফুরন্ত চাহিদা মেটাতে গিয়ে চলেছে নির্বিচারে বৃক্ষ ছেদন। ফলে উৎপন্ন হওয়া ক্ষতিকারক গ্যাস শোষণ করে নেবার পর্যাপ্ত বনাঞ্চল না থাকাই তা ভূমন্ডলে থেকে গিয়ে পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। এছাড়া বিশ্ব উষ্ণায়নের অপর কারণগুলি হলো-
১. জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসের বৃদ্ধি।
২. জ্বালানির জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইডের বৃদ্ধি।
৩. পচা জৈব আবর্জনা, গবাদি পশুর গোবর, ধানক্ষেতের উৎপন্ন হওয়া গ্যাস থেকে মিথেনের বৃদ্ধি।
৪. বন কাটার জন্য নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি।
৫. নাইট্রোজেন স্যারের অতিরিক্ত ব্যবহার।

বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব:

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে খামখেয়ালী। এলোমেলো হয়ে গেছে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। ফলে অসময়ে ঘটেছে ঋতু পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ভয়ংকর সামুদ্রিক ঝড়। আর এতে প্রাণ যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ প্রাণীর। ধ্বংস হয়ে গেছে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সম্পদ। এছাড়া বিজ্ঞানীদের ধারণা বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে-
১. বাস্তুতন্ত্র ও সমস্ত জীবজগতের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
২. হিমবাহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর স্থলভাগের বরফ গলে সমুদ্রে জলস্ফীতি ঘটবে।
৩. অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। প্রায় ৪৪ শতাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণী বিলুপ্ত হবে।

উপসংহার:

বিশ্ব উষ্ণায়ন পৃথিবীর এক গভীরতর অসুখ। এর থেকে মুক্তির উপায় সচেতনতা। শুধুমাত্র ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করলেই হবে না, প্রত্যেকদিন, প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের সচেতন থেকে তা পালন করতে হবে। বৃক্ষরোপণ করে কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমান কমিয়ে পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে হবে। তা না হলে মরিশাসের ডোডো পাখির মতো পৃথিবী থেকে জীবকূল একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই আমাদের শপথ নিতে হবে-

“যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ,
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”

👉 সমস্ত রচনা দেখতে: Click Here

আরও পড়ুন: বইমেলা প্রবন্ধ রচনা

Subscribe Our YouTube Channel: Click Here

Keywords:

বিশ্ব উষ্ণায়ন রচনা, বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা class 12, প্রবন্ধ রচনা বিশ্ব উষ্ণায়ন

Leave a Comment