কাশি নিরাময় থেকে রূপচর্চা: তুলসী পাতার অজানা যত উপকারিতা

তুলসী পাতার উপকারিতা:

১. সাধারণ জ্বর ও ম্যালেরিয়ার জ্বর পর্যন্ত সারাতে পারে।
২. রক্ত পরিষ্কার করে ও কোলেস্টেরল কমায়।
৩. পাকস্থলীর শক্তি বৃদ্ধি করে।
৪. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. ব্লাড সুগার কমে ও ডায়াবেটিস ভালো হয়।
৬. কিডনির পাথর দূর করে।
৭. মাথা ব্যাথা সারায়।
৮. মুখের আলসার ভালো করতে পারে।
৯. মুখের ব্রোন দূর করে।
১০. প্রস্রাবজনিত জ্বালা যন্ত্রনায় বিশেষ উপকার হয়।

আরও পড়ুন :

থানকুনি পাতার উপকারিতা

নিম পাতার উপকারিতা

আমন্ড খাওয়ার উপকারিতা

পেটের মেদ কমানোর উপায়

তুলসী পাতার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা:

১. কোষ্ঠকাঠিন্য:

পেট পরিষ্কার অর্থাৎ পায়খানা পরিষ্কার না হলে, গলার মধ্যেও তার প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, কাশি এবং সেই সঙ্গে মাথা ভার হয়ে থাকে। এই অবস্থায় ২০ গ্রাম তুলসী পাতার সঙ্গে ৫০ গ্রাম গোলাপী ফিটকিরি চুর্ণ করে এক একটি মটরের মতো বড়ি তৈরী করে ছায়াতে শুষ্ক করে নিতে হবে। এবার এক-একটি বড়ি সকালে ও সন্ধ্যায় জলসহ সেবন করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে।

২. দাঁতের ব্যথা:

দাঁতের যন্ত্রণা খুবই কষ্টদায়ক। দাঁতের যন্ত্রণা হলে- তুলসী পাতা ও কালো মরিচ পিষে বড়ি তৈরী করতে হবে এবং যে দাঁতে যন্ত্রনা হচ্ছে, তার তলায় চেপে রাখলে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যাবে।

৩. মুখের দুর্গন্ধ:

খাবার পর একটি বা দুটি তুলসীর পাতা মুখে রেখে চিবিয়ে খাবে। মুখের দুর্গন্ধ কেটে যাবে এবং দাঁতের পোকা নষ্ট হবে।

৪. স্তনদুগ্ধ বৃদ্ধি:

শিশুদের জন্য মায়ের স্তনে প্রচুর দুধ থাকার প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় , প্রসূতির স্তনে দুগ্ধ থাকে না, আর থাকলেও খুব কম পরিমাণে থাকে। এই অবস্থায় তুলসী পাতার রস খেলে স্তন দুগ্ধ বৃদ্ধি পায়।

৫. চুল উঠে যাওয়া:

তুলসীর ২১ টি পাতা এবং আমলকীচূর্ণ ১০ গ্রাম একটি বড়ো পাত্রে ঢেলে জল মিশ্রিত করে, দশ-পনেরো মিনিট পরে সেই জলে মাথা ভালোভাবে ভিজিয়ে নিতে হবে যাতে চুলের গোড়ায় সেই জল লাগে। যখন মাথা শুকনো হয়ে যাবে, তখন ভালোভাবে পরিষ্কার জলে মাথা ধুয়ে নারকেল তেল লাগাতে হবে। এতে চুলের গোড়া শক্ত হবে ও চুল কালো হবে।

FAQs: Frequently Asked Questions

১. সর্দি-কাশিতে কীভাবে তুলসী পাতা খাবো?

উত্তর: তুলসী পাতার রসে মধু ও আদার রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। অথবা, ১ কাপ জলে কয়েকটি তুলসী পাতা ও ১ টুকরো আদা দিয়ে ফুটান। ফুটে উঠলে জ্বাল কমিয়ে দিন। জল কমে অর্ধেক হয়ে গেলে নামিয়ে পান করুন।

২. প্রতিদিন তুলসী পাতা খেলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যায়?

উত্তর: প্রতিদিন তুলসী পাতা খেলে হজম শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

আরও দেখুন: বয়স ক্যালকুলেটর

৩. কাশি হলে তুলসি পাতা কিভাবে খেতে হয়?

উত্তর: আপনি দৈনন্দিন ১টি বা ২টি তুলসি পাতা, ২ টেবিল চামচ মধু, আধা চিমটি হলুদের গুঁড়া, আধা চিমটি লং পেপার এবং আধা চিমটি কালো গোলমরিচ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে মিশিয়ে ব্লেন্ড করতে পারেন। তারপর মিশ্রণ থেকে রস বের করতে হবে। আপনি প্রতিদিন ২/৩ বার এই রসটি ৫ মিলিলিটার পরিমাণে খেতে পারেন। এই মিশ্রণের উপাদানগুলি তাপমাত্রায় উষ্ণ হওয়ার জন্য, তাই দুই সপ্তাহ ব্যবহারের পর এটিকে বন্ধ করা উচিত।

৪. তুলসীর অপকারিতা কি কি?

উত্তর: তুলসীর অপকারিতা:
অতিরিক্ত তুলসী পাতা খেলে শরীরে রক্তের প্রবাহ অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত জমাট হওয়ার প্রবণতা নষ্ট হয়ে যায়। অতিরিক্ত তুলসী পাতার সেবন লিভারের ক্ষতি, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং খিঁচুনি হতে পারে।

৫. খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা কি?

উত্তর: খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়া পাকস্থলীর জন্য খুবই উপকারী। তুলসী পাতা গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা বিভিন্ন ধরনের হজমজনিত অসুখে উপশম দেয়, মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তুলসী পাতায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রপার্টি অকাল বার্ধক্য থেকে রক্ষা করে।

৬. তুলসী পাতার উপকারিতা কি কি?

উত্তর: তুলসী পাতা সর্দি- কাশিতে উপশম দেয়, রক্ত পরিষ্কার করে ও কোলেস্টেরল কমায়, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে, মুখের আলসার ভালো করতে পারে, মুখের ব্রোন দূর করে, পাকস্থলীর শক্তি বৃদ্ধি করে।

৭. তুলসী পাতার বিজ্ঞানসম্মত নাম কি?

উত্তর: তুলসী পাতার বিজ্ঞানসম্মত নাম Ocimum Tenuiflorum এবং Ocimum Sanctum

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
এখানে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞানের জন্য। এটি কোনো পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো কিছু গ্রহণ করার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

👉 স্বাস্থই সম্পদ: Click Here

আরও পড়ুন:

বয়স বাড়লে চুল সাদা হয়ে যায় কেন?

লেবু জল খাওয়ার উপকারিতা

Our YouTube Channel: Click Here

Leave a Comment

CLOSE

You cannot copy content of this page