Baky theke Bochone Rupantorer-Niyom

Baky theke Bochone Rupantorer-Niyom

বাক্য থেকে বচনে রূপান্তরের নিয়ম
বচন কাকে বলে?

ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত চিন্তাকেই ব্যাকরণগত দিক থেকে বলা হয় বাক্য। এই বাক্যের পরিস্রুত ও তর্কবিজ্ঞানসম্মত রূপকে বলা হয় বচন।

বচনের কয়টি অংশ ও কী কী?

বচনের অংশ হলো চারটি। যথা -(১)পরিমাণক (২) উদ্দেশ্য (৩) সংযোজক এবং (৪) বিধেয় ।

পরিমাণক কী?

বচনের যে অংশটি উদ্দেশ্য অংশের পরিমাণ বা বিস্তৃতিকে সূচিত করে, তাকে পরিমাণক বলে ।
যেমন: সকল মানুষ হয় মরণশীল।
এখানে সকল হলো সার্বিক পরিমাণক। যা উদ্দেশ্যে অংশের সম্পূর্ণ পরিমাণকে সূচিত করেছে।
পরিমাণক দুই প্রকার। যথা- (i) সার্বিক (সকল) (ii) বিশেষ ( কোনো কোনো)।

উদ্দেশ্য কী?

বচনে যার সম্পর্কে কোন কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, তাকে উদ্দেশ্য (Subject) বলা হয়।
যেমন: সকল দরিদ্র হয় দুঃখী।
এখানে দরিদ্র সম্পর্কে কোনো কিছু স্বীকার করা হয়েছে। তাই দরিদ্র হল উদ্দেশ্য।

সংযোজক কী?

উদ্দেশ্য ও বিধেয় মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে যে উপাদানটি তাকে সংযোজক বলা হয়। বাংলায় যাকে ক্রিয়া বলে। সেই ক্রিয়াটি এখানে সংযোজকের ভূমিকা পালন করে।
যেমন: সকল দরিদ্র হয় দুঃখী।
এখানে ‘হয়’ পদটি ‘দরিদ্র’ এবং ‘দুঃখী’ এদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করছে। তাই ‘হয়’ হল ‘সংযোজক’।
সংযোজকের দুটি রূপ ।যথা-(i)সদর্থক ও (ii) নঞর্থক।

বচন কত প্রকার?

নিরপেক্ষ বচন চার প্রকার। যথা- A, E, I, O

বচনের আকার:
নিরপেক্ষ বচনধরণআকারউদ্দেশ্য পদ (S)বিধেয় পদ (P)
Aসামান্য সদর্থকসকল S হয়  Pব্যাপ্যঅব্যাপ্য
Eসামান্য নঞর্থককোনো  S  নয়  Pব্যাপ্যব্যাপ্য
Iবিশেষ সদর্থককোনো কোনো S হয় Pঅব্যাপ্যঅব্যাপ্য
Oবিশেষ নঞর্থককোনো কোনো S নয় Pঅব্যাপ্যব্যাপ্য
বচনের ব্যাপ্যতা মনে রাখার সহজ উপায়:
নিরপেক্ষ বচনের কোন পদ কাকে ব্যাপ্য তা মনে রাখার সুবিধার জন্য একটি অর্থহীন সাংকেতিক শব্দকে মনে রাখতে হয় । এটি হলো–As Eb In Op
সাংকেতিক শব্দটির ব্যাখ্যা:
As= A বচনের Subject অর্থাৎ উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য।
Eb=E বচনের both অর্থাৎ উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদ ব্যাপ্য।
In = I বচনের none অর্থাৎ উদ্দেশ্য ও বিধেয় কোনো পদই ব্যাপ্য নয়।
Op= O বচনের শুধু predicate অর্থাৎ বিধেয় পদ ব্যাপ্য।
বাক্য থেকে বচনে পরিণত করার নিয়ম:
নিয়মযে বচনে রূপান্তর করতে হবেবিশেষ মন্তব্যউদাহরণ
1. যেসব বাক্যে সকল ,সমস্ত ,প্রত্যেক,যে কেউ, যেকোনো, সর্বপ্রকার ,সর্বত্র ,সম্পূর্ণভাবে, সবসময়, একান্তভাবে, নিশ্চিতভাবে ,অবশ্যই ,নিশ্চয়ই প্রভৃতি শব্দ থাকে এবং বাক্যটি সদর্থক অর্থাৎ হ্যাঁ বাচক হয়।Aবাক্য: সব পাখি আকাশে ওড়ে।
L.F. ‘A'(আদর্শ আকার‘A’) সকল পাখি হয় এমন যারা উড়তে পারে।
2. যেসব বাক্যে সকল ,সমস্ত ,প্রত্যেক,যে কেউ, যেকোনো, সর্বপ্রকার ,সর্বত্র ,সম্পূর্ণভাবে, সবসময়, একান্তভাবে, নিশ্চিতভাবে ,অবশ্যই ,নিশ্চয়ই প্রভৃতি শব্দ থাকে এবং বাক্যটি নঞর্থক অর্থাৎ না বাচক হয়।Oবাক্য: প্রত্যেক সাধু চরিত্রবান নয়।
L.F. ‘O’ – কোনো কোনো সাধু নয় চরিত্রবান।
3. যেসব বাক্যে অনেক ,অধিকাংশই, অনেকাংশ, সাধারণত, কয়েকটি ,কিছু কিছু ,প্রায়ই, বহু, একটি ছাড়া সব, শতকরা এত ভাগ প্রভৃতি শব্দ থাকে এবং বাক্যটি নঞর্থক অর্থাৎ না বাচক হয়।Oবাক্য: দরিদ্ররা প্রায়ই লোভী হয় না।
 L.F. ‘O’ কোনো কোনো দরিদ্র ব্যক্তি নয় লোভী।
4. যেসব বাক্যে অনেক ,অধিকাংশই, অনেকাংশ, সাধারণত, কয়েকটি ,কিছু কিছু ,প্রায়ই, বহু, একটি ছাড়া সব, শতকরা এত ভাগ প্রভৃতি শব্দ থাকে এবং বাক্যটি সদর্থক অর্থাৎ হ্যাঁ বাচক হয়।Iবাক্য: অনেক শিক্ষক অসৎ।
L.F. ‘I’ কোন কোন শিক্ষক হয় অসৎ ব্যক্তি।
5. যেসব বাক্যে কখনোই নয়, কোন কিছুই নয়, কেউই নয়, কোনোমতেই নয় ,একটিও নয়, ‘কোনটি নয়, কোনো ব্যক্তিই নয়, কদাপি নয়, কোনো দিনও নয়, হতে পারে না, প্রভৃতি শব্দ থাকে।Eবাক্য: সাদা হাতি নেই।
L.F. ‘E’ – কোনো হাতি নয় সাদা প্রাণী।
6. যদি কোন বাক্যে ‘কেবল মাত্র‘, ‘এক মাত্র‘, ‘শুধু মাত্র’, ‘শুধু কেবল’, ‘শুধু’, ‘কেবল’,’ব্যাতিত কেহ নয়’,’ছাড়া কেও নয়’ -প্রভৃতি শব্দ যদি কোন বাক্যের প্রথমে থাকেA● বাক্যের উদ্দেশ্য পদ বচনে বিধেয় পদ হবে।
● বাক্যের বিধেয় পদ বচনে উদ্দেশ্য পদ হবে।
বাক্য: কেবল মাত্র সাধুরাই সৎ।
L.F. ‘A’ – সকল সৎ ব্যাক্তি হয় সাধু।
7. যদি ‘কেবল মাত্র‘, ‘এক মাত্র‘, ‘শুধু মাত্র’, ‘শুধু কেবল’, ‘শুধু’, ‘কেবল’,’ব্যাতিত কেহ নয়’,’ছাড়া কেও নয়’, -প্রভৃতি শব্দ যদি কোন বাক্যের বিধেয় পদের আগে বসে অর্থাৎ বাক্যের মাঝখানে থাকেA● বাক্যের উদ্দেশ্য পদ, বিধেয় পদ বচনে স্থান পরিবর্তন করবে না।বাক্য: ছাত্ররা কেবল জীবনমুখী গান ভালোবাসে।
L.F. ‘A’ – সকল ছাত্র হয় এমন তারা জীবনমুখী গান ভালোবসে।
8. যদি কোন বাক্যে ‘কেবল মাত্র‘, ‘এক মাত্র‘, ‘শুধু মাত্র’, ‘শুধু কেবল’, ‘শুধু’, ‘কেবল’, এবং তার সঙ্গে ‘নয়’ চিহ্ন থাকেA এবং E উভয়ইবাক্য: একমাত্র শিশুরা অন্যের মনে আঘাত করে না।
L.F. ‘A’– সকল অ-শিশু হয় এমন যারা অন্যের মনে আঘাত করে।
L.F. ‘E’ – কোন শিশু নয় এমন যারা অন্যের মনে আঘাত করে।
9. যদি কোন বাক্যে ‘ব্যাতীত‘, ‘ছাড়া‘, ‘বাদে’ -প্রভৃতি কোন ব্যাতিক্রম মূলক শব্দ থাকে এবং যদি নির্দিষ্ট করে বলা হয়A● ব্যাতিক্রম মূলক শব্দটি বন্ধনীতে উল্লেখ করতে হয়বাক্য: পারদ ছাড়া সব ধাতু মূল্যবান।
L.F. ‘A’– সকল ধাতু (পারদ ছাড়া) হয় মূল্যবান।
10. যদি কোন বাক্যে ‘ব্যাতীত‘, ‘ছাড়া‘, ‘বাদে’ -প্রভৃতি কোন ব্যাতিক্রম মূলক শব্দ থাকে এবং ব্যাতিক্রম যদি অনির্দিষ্ট হয়Iবাক্য: একটি ছাড়া সব ধাতু কঠিন ।
L.F. ‘I’ কোনো কোনো ধাতু হয় কঠিন।
11.  কোন বাক্যের উদ্দেশ্য পদটি যদি নামবাচক বিশেষ্য পদ হয় বা Proper noun হয়A● কোনো পরিমাণক বসবে না।বাক্য: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহান কবি।
L.F. ‘A’ রবীনাথ ঠাকুর হন মহান কবি।
12. যেসব বাক্যে কদাচিৎ, কচ্চিৎ, ‘খুব কম’, ‘নেই বল্লেই হয়’, ‘খুব কম সংখ্যক’, ‘বিরল’ প্রভৃতি এবং বাক্যটি যদি সদর্থক হয়Oবাক্য: মানুষ কদাচিৎ সুখী।
L.F. ‘O’ কোনো কোনো মানুষ নয় সুখি।
13. যেসব বাক্যে কদাচিৎ, কচ্চিৎ ‘খুব কম’, ‘নেই বল্লেই হয়’, ‘খুব কম সংখ্যক’, ‘বিরল’ প্রভৃতি শব্দ থাকে এবং বাক্যটি যদি নঞর্থক হয়Iবাক্য: মানুষ কদাচিৎ সুখী নয় ।
L.F. ‘I’ কোনো কোনো মানুষ হয় সুখি।
14. অনেক বাক্যে পরিমাণের উল্লেখ থাকে নাসে ক্ষেত্রে বাক্যের অর্থ বুঝে বচন করতে হয়।বাক্য: ফুল সুন্দর।
L.F. ‘A’ – সকল ফুল হয় সুন্দর।
বাক্য: মানুষ সর্বজ্ঞ নয়।
L.F. ‘E’ – কোনো মানুষ নয় সর্বজ্ঞ।
L.F. ‘O’ – কোন কোন ধনী নয় সৎ।
বাক্য: একটি বালক চতুর।
L.F. ‘I’ – কোনো কোনো বালক হয় চতুর।
15.  কোন বাক্যে উদ্দেশ্য পদ স্পষ্ট না থাকলেসে ক্ষেত্রে বাক্যের অর্থ বুঝে বচনে উদ্দেশ্য পদটি উল্লেখ করতে হয়।বাক্য: বৃষ্টি পড়ছে।
L.F. ‘A’ – আবহাওয়া হয় বৃষ্টি যুক্ত।
বাক্য: এখন দিন। 
L.F. ‘A’ – বর্তমান সময় টি হয় দিন।
16. প্রশ্নসূচক ও সদর্থক বাক্য থাকলে Eবাক্য: অশান্তি কে চায়?
L.F. ‘E’ – কোনো মানুষ নয় এমন যে অশান্তি চায়।
17. প্রশ্নসূচক ও নঞর্থক বাক্য থাকলেAবাক্য: কোন মা নিজের সন্তানকে ভালবাসেন না?
L.F. ‘A‘- সকল মা হন এমন যাঁরা নিজের সন্তানকে ভালবাসেন।
18. যদি কোনো বাক্যের সঙ্গে ‘আছে’ শব্দটি যুক্ত থাকেIবাক্য: লাল ফুল আছে।
L.F. ‘I’ – কোনো কোনো ফুল হয় লাল।
19. যদি কোনো বাক্যের সঙ্গে ‘নেই’ শব্দটি যুক্ত থাকেEবাক্য: গোলাকার চতর্ভুজ নেই।
L.F. ‘E’ – কোনো চতুর্ভুজ নয় গোলাকার বস্তু।
20. কিছু বাক্য আছে যেগুলির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই এবং বাক্যটি যদি সদর্থক হয় Aবাক্য: ভুত আছে।L.F. ‘A‘- সকল ভুত হয় অস্তিত্বশীল।
21. কিছু বাক্য আছে যেগুলির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই এবং বাক্যটি যদি নঞর্থক হয় Eবাক্য: পরি নেই।
L.F. ‘E’ – কোনো পরি নয় অস্তিত্বশীল।
Exercise:

সমস্ত অধ্যায়ের প্রশ্ন দেখার জন্য: Click Here

HS English Notes: Click Here

Subscribe Our YouTube Channel: Click Here

বচন চেনার উপায় | উচ্চ মাধ্যমিক দর্শন সাজেশন | উচ্চ মাধ্যমিক দর্শন প্রশ্ন উত্তর | বচনে রূপান্তর করার নিয়ম | কীভাবে বাক্য থেকে বচনে রূপান্তর করা যায় HS Philosophy বচন Question-Answer Baky theke Bochone Rupantorer-Niyom

Keywords: HS Philosophy Suggestion | HS Philosophy Question Answer | HS Philosophy Second Chapter Bochon | kivabe bochone rupantor kora jay | Class 12 Philosophy Suggestion | Class 12 Philosophy Question Answer WBCHSE Philosophy Second Chapter

Baky theke Bochone Rupantorer-Niyom

বাক্য থেকে বচনে রূপান্তরের নিয়ম

Keywords: বাক্য থেকে বচনে রূপান্তরের নিয়ম | বচন চেনার উপায় | কিভাবে বাক্য থেকে বচনে পরিণত করবো | বচনে পরিণত করার সহজ নিয়ম | কীভাবে ব্যাপ্য ও অব্যাপ্য নির্ণয় করতে হয় | বাক্য থেকে বচন করার সহজ নিয়ম | বচনে রূপান্তর করার উপায়।

বাক্য থেকে বচনে রূপান্তরের নিয়ম Baky theke Bochone Rupantorer-Niyom

Leave a Comment

CLOSE

You cannot copy content of this page