থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

আমাদের দেশে খুব পরিচিত একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল থানকুনি পাতা। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদিকাল থেকেই হয়ে আসছে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যদি কেউ নিয়মিত থানকুনি পাতা খান তবে মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

থানকুনি পাতার উপকারিতা:

১. ক্ষত নিরাময়:

খেলতে গিয়ে পড়ে গিয়ে বা অন্যকোনো কারণে হাত বা পা কেটে গেলে দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করার জন্য থানকুনি পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। থানকুনি পাতা বেঁটে ক্ষতস্থানে লাগালে ব্যথা কমবে এবং রক্ত ​​পড়া বন্ধ হবে। এমনকি ক্ষতস্থানে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে।

২. বিশুদ্ধ রক্ত:

থানকুনি পাতার রস পান করলে রক্ত ​​পরিষ্কার থাকে। অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ​​শরীরের সমস্ত কোষে যায়। ফলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়। আমাদের হাত এবং পায়ের ফোলা কমাতেও থানকুনি পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩. প্রদাহ কমাতে:

শরীরের অভ্যন্তরে কোনো ক্ষত থাকলে তা জ্বর, ক্লান্তি, ক্ষুধা হ্রাস এবং পেশীতে ব্যথাসহ নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। থানকুনি পাতায় রয়েছে প্রচুর উপাদান যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ফলে ব্যথা, জ্বালা, ক্লান্তি খুব দ্রুত চলে যায়। এছাড়াও থানকুনি পাতা অনেক ধরণের সংক্রমণ ঘটতেও বাধা দেয়।

৪. আলসার নিরাময়:

পেটের যেকোনো সমস্যায় থানকুনি গাছের পাতা খুবই উপকারী। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ আলসার এবং ডায়রিয়ার চিকিত্সার জন্য এই পাতা ব্যবহার করে আসছে। যাদের প্রায়ই ডায়রিয়া হয়, তাদের জন্য থানকুনি পাতা দারুণ উপকারী।

আরও পড়ুন: শসা খাওয়ার উপকারিতা

৫. মানসিক অবসাদ কমায়:

যাদের মানসিক সমস্যা আছে তাদের জন্য থানকুনি পাতার রস বিস্ময়করভাবে কাজ করে। থানকুনি স্ট্রেস হরমোন তৈরি নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে, মানসিক চাপ, অস্থিরতা ও উদ্বিগ্নতার সম্ভাবনাও কমে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
এখানে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞানের জন্য। এটি কোনো পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো কিছু গ্রহণ করার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

আরও পড়ুন: লেবু জল খাওয়ার উপকারিতা

৬. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:

থানকুনি পাতা নিয়মিত খাওয়া হলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পেন্টাসাইক্লিক ট্রাইটারপেনস নামক রাসায়নিকের পরিমাণ বাড়ে, যা মস্তিষ্ককে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এতে স্মৃতিশক্তি যেমন ভালো হয় তেমনি বুদ্ধিও প্রখর হয়।

৭. টক্সিন থেকে মুক্তি:

থানকুনি পাতা আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বা বিষজাতীয় উপাদানগুলি বের করে শরীর পরিষ্কার রাখে। নিয়মিত থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে শরীর থেকে সব খারাপ জিনিস বেরিয়ে যাবে।

থানকুনি পাতার অপকারিতা:

১. থানকুনি পাতা অধিক ব্যবহারে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং ঘুম ঘুম ভাব ঘটতে পারে।
২. বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এই ভেষজটি কতটা নিরাপদ সেই সম্পর্কে তেমন কোনও তথ্য নেই। তাই মায়েদের থানকুনি পাতা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৩. অতিরিক্ত থানকুনি পাতা খেলে পেট খারাপ বা পেট ব্যাথা হতে পারে।
৪. যাদের আল্যার্জি সমস্যা রয়েছে তারা থানকুনি পাতা সেবন করলে শরীরে লাল, লাল ছোপ বা দাগ সৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন: নিম পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার ইংরেজি নাম:

থানকুনি পাতার ইংরেজি নাম Centella asiatica.

থানকুনি পাতার ব্যবহার:

১. চুল পড়ার হার কমায়।
২. শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে দেয়।
৩. শরীরের ক্ষত নিরাময়ে উপকারী।
৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়।
৫. ত্বকের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে।
৬. আমাশয়ের মতো সমস্যা দূর করে।
৭. কাশির প্রকোপ কমায়।
৮. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে।

আরও পড়ুন: তুলসী পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার ব্যবহৃত অংশ:

থানকুনি পাতা ও পুরো গাছ ঔষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

থানকুনি পাতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

থানকুনি পাতার তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে অতিরিক্ত থানকুনি পাতা গ্রহণ করলে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব পেট খারাপ বা পেট ব্যাথা হতে পারে।

FAQs: Frequently Asked Questions

প্রশ্ন: থানকুনি পাতা খেলে কি হয়?

উত্তর: থানকুনি পাতা খাওয়া শরীরের পক্ষে খুব উপকারী। থানকুনি পাতা খেলে শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যায়, হজম ক্ষমতা বাড়ে, ত্বকের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পায়, আমাশয়ের মতো সমস্যা দূর হয়, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়।

প্রশ্ন: থানকুনি পাতা কিভাবে খেতে হয়?

উত্তর: প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। সকাল বেলা খালি পেটে কাঁচা থানকুনি পাতা চিবিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়। থানকুনি পাতার ছোটো ছোটো বড়ি করে নিয়মিত খেতে পারেন।

প্রশ্ন: থানকুনি পাতা কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: ভারত, বাংলাদেশ, সিংহল, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, এবং এশিয়ার অন্যান্য প্রান্তে থানকুনি পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: থানকুনি পাতার উপকারিতা কি?

উত্তর: থানকুনি পাতা খাওয়া শরীরের পক্ষে খুব উপকারী। থানকুনি পাতা খেলে শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যায়, হজম ক্ষমতা বাড়ে, ত্বকের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পায়, আমাশয়ের মতো সমস্যা দূর হয়, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
এখানে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞানের জন্য। এটি কোনো পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো কিছু গ্রহণ করার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। অন্যথায় আমরা কোনো মতেই দায়ী থাকবো না।

👉 স্বাস্থই সম্পদ: Click Here

আরও পড়ুন:

বয়স বাড়লে চুল সাদা হয়ে যায় কেন?

👉 Subscribe Our YouTube Channel: Click Here

Leave a Comment

CLOSE

You cannot copy content of this page